সিলেট সংবাদদাতা: সাতসকালে ভোরের স্নিগ্ধতা ছাপিয়ে সিলেটের রাজপথে নেমে এল এক অবর্ণনীয় ট্রাজেডি। দক্ষিণ সুরমার নাজিরবাজার এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নির্মাণকাজের সাথে যুক্ত আটজন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। জীবন গড়ার প্রত্যয়ে যাত্রা শুরু করলেও গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই যমদূত হয়ে আসা এক ঘাতক ট্রাক তাঁদের কেড়ে নিল চিরতরে।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও হতাহত:
আজ রোববার (৩ মে) দক্ষিণ সুরমার তেলিবাজার নামক স্থানে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সিলেট শহর থেকে ছাদ ঢালাইয়ের কাজের উদ্দেশ্যে শ্রমিকবাহী একটি ‘ডিআই পিকআপ’ সুনামগঞ্জের দিরাই অভিমুখে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাঁঠালবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে পিকআপটির প্রচণ্ড সংঘাত ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতই ভয়াবহ ছিল যে, ঘটনাস্থলেই চারজন শ্রমিক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। স্থানীয় জনতা ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। বর্তমানে অন্তত আটজন গুরুতর আহত অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
নিহতদের পরিচয়:
নিহতদের অধিকাংশের আবাসস্থল সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে চারজন হচ্ছেন- বদরুল (৩০), পিতা- সুজাত আলী, থানা- জালালাবাদ, সিলেট, মো. সুরুজ আলী (৬০):** পিতা- মৃত খরম আলী, গ্রাম- ভাটিপাড়া, দিরাই, মোছা. মুন্নি (৩৫), পিতা- আব্দুল বাসির, গ্রাম- ভাটিপাড়া, দিরাই ও ফরিদুল (৩৫), পিতা- নূর সালাম, গ্রাম- ভাটিপাড়া, দিরাই।
আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনের বক্তব্য:
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম এই পৈশাচিক দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই ঘাতক ট্রাক ও পিকআপের চালকদ্বয় পলায়ন করতে সক্ষম হলেও ট্রাকের সহকারীকে (হেল্পার) পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক একটি দুর্ঘটনা। শ্রমিকদের বহনকারী পিকআপটির সাথে বিপরীতমুখী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষই এই প্রাণহানির মূল কারণ। আমরা ঘাতক চালকদের গ্রেপ্তারের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছি এবং আইনি প্রক্রিয়া প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বর্তমানে দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটিকে সরিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জীবিকার সন্ধানে বের হওয়া অসহায় এই শ্রমিকদের অকাল প্রয়াণে তাঁদের পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম। স্থানীয়রা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply